Sunday, September 11, 2011

দিগন্ত ছুঁয়েছে বর্ষার হাত

পানকৌড়ির ঠোঁট বেয়ে নেমে আসে
একফোটা জল,
স্নিগ্ধ চাহনির সাতকাহন মেলে
ছায়াকাব্য অবিরল।
শ্বেতরঙ্গনের ললাট ছুঁয়ে যায়
আদিমতার স্পর্শে
সন্ধ্যামণির পাপড়ি ঝরে,
চির নবীন এ বর্ষে!
ফুল হয়ে ফুটে যায়
সময়ের কালো পাতা;
বিরহীর ভেজা চোখে
স্পর্শহীন কাতরতা।
দিগন্তের কালো রেখা
নেমে আসে ভুলহীন
                 দৃষ্টিতে
বর্ষার হাত ছুয়ে ভিজে যাই
তুমি আমি     মহাকাব্যের
                  সৃষ্টিতে।
রংমহলে

পাজিদের খপ্পরে

চলতে ফিরতে টাকার প্রয়োজন যে কত তা মানুষ মাত্রই বুঝে। টাকা না থাকলে নিজের ভিতর ভিতর এমনিতেই ফকির ফকির একটা ভাব এসে যায়। বয়স তের হয়েছে তো কি হয়েছে, তাই বলে যে টাকার প্রয়োজন হবে না তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া ছোট্ট বাচ্চারা অন্য কিছু না চিনলেও সবার আগে টাকাটা ঠিকই চিনে। সুজনের পকেটটা বর্তমানে ফাঁকা তাই তার মাথায় ভাবনাগুলো খেলতে লাগল। তাছাড়া বাবা-মার পেছনে এক সপ্তাহ ঘুরে যাও দশ-বার টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে কি আর চলে! দোকানে একবার বসলেই তো পকেট গড়ের মাঠ। কিভাবে টাকা আয় করা যায় তাই নিয়ে সুজন বেশ ভাবতে লাগল। না, তার মাথায় কোন আইডিয়া আসছে না। সে ভাবল, পদ্ম সাথে কথা বলা যাক, সে নিশ্চয়ই একটা আইডিয়া দিতে পারবে।
পদ্মকে বেশি দূর খুঁজতে হলো না, পুকুর ঘাটেই পাওয়া গেল। বরশি দিয়ে মাছ ধরছিল। সুজন নিশব্দে গিয়ে পদ্মের পাশে বসে পড়ল।
পদ্ম ওর দিকে না তাকিয়ে বলল, কিরে কোন সমস্যা মনে হচ্ছে।
সুজন কন্ঠে অভিমান নিয়ে বলল, সমস্যার কি আর শেষ আছেরে, ইদানিং বেশ টাকার সমস্যায় ভুগছিরে। বাবা মার কাছ থেকে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে কি আর চলে। তাছাড়া জিনিসপত্রের দাম যে বেড়েছে তা কি তাদের খেয়ালে আছে।
পদ্ম সুজনের দিকে কতক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল, এ আর নতুন সমস্যা কি! এ সমস্যায় আমিও ভুগছি, তুইও ভুগছিস সব ছেলেরাই তো ভোগে।
সুজন এবার চান্স পেয়ে বলল, তাই তো বলছিলাম আমরা টাকা আয়ের নতুন কোন পথ খঁজে বের করি।
-ভিক্ষা ছাড়া কোন পথ নেই, বলেই পদ্ম হাসতে লাগল। রাস্তার মোড়ে থালা হাতে ভিক্ষা করতে পারবি তো।
-ধুৎ এসব যে কি বলিস। না বলছিলাম কি, কোন কিছুর ব্যবসা-ট্যবসা করা যায় না।
-এ বয়সে ব্যবসায়ী (!?) আমাদের প্রেস্টিজ বলে কথা আছে না! তাছাড়া সবার কাছে আমাদের পাত্তা থাকবে বলে মনে করিস? সবাই যখন ‘আম ব্যাপারী’ নয় ‘জাম ব্যাপারী’ কিংবা ‘কচু ব্যাপারী’ বলবে তখন কেমন লাগবে?
সুজন এবার কোন কথা বলল না, চুপ করে ভাবতে লাগল। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল।
-ইউরেকা ! দারুন একটা আইডিয়া পেয়েছিরে পদ্ম। পুঁজি ছাড়া জমজমাট ব্যবসা। কিছু দিনের ভিতর মনে র্ক হাজার পতি।
পদ্ম এবার অবাক না হয়ে পাড়ল না। তবু সে ব্যাপারটাকে একটু তাচ্ছিল্য করে বলল, ওসব চুরির চিন্তা বাদ দে। শেষে চুরিতে ধরা খেলে শরীলের হাড্ডি গুড়ো করে বাচ্চাদের ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ গুরুদুধ তৈরি করবে।
-আরে গাঁধা ও সব কিছু না। আমাদের গণক সাজতে হবে। মানুষের হাত দেখে টাকা আয় বুঝলি। জমজমাট ব্যবসা হবে। দিনে একশ হলে ও চলে নাকি!
সুজনের আইডিয়াটা পদ্মের বেশ পছন্দ হল। সে ভাবল, কিছু টাকা যদি আয় করা যায় তাহলে অন্তত কিছুদিন এলাকায় বেশ ভাব দেখিয়ে চলা যাবে। তাছাড়া শান্তাকে একটা উপহারও দেওয়া যাবে। অনেক দিন সে দেবে দেবে ভাবছিল কিন্তু টাকায় আর হয়ে ওঠে না। অথচ তুরাবটা ওকে উপহার দিতে দিতে ওর মন পাওয়ার অবস্থা হয়ে গিয়েছে।
পদ্ম আর সুজন ব্যবসার কাজ পুরোদমে শুরু করে দিল। এ কাজে সাহায্য করার জন্য তাদের সাগরেদ হিসেবে নেয়া হল কেরামতকে। সেদিন ভূত হিসেবে ধরা খেয়ে দু‘জনের হাতে যা মার খেয়েছে তাতে সে সব শত্রুতামি ভুলে গিয়েছে। শেষে পদ্মদের দলে যোগ দিয়েছে। এজন্য অবশ্য তাকে রক্তকসম কাটতে হয়েছে। আর রক্ত কসম মানে তো বুঝই!
জ্যোতিষী হওয়ার কাজটা ওরা যত সহজ ভেবেছিল আসলে তত সহজ নয়। গ্রহ-নক্ষত্রের যে কত ফের আছে তা কি ওদের ছোট্ট মাথায় ধরে। হাতের কোন রেখার কি নাম তা মনে রাখা বায়োলজির বৈজ্ঞানিক নাম মনে রাখার ছেয়ে আরো কঠিন। জ্যোতিষী হওয়ার জন্য ওরা এক ঘাট্টা বইও কিনে এনেছিল। এখন এসব পড়ে দু’জনের মাথা হেট হচ্ছে! তাই ওরা ভাবল, কোন গুরুর কাছে গিয়ে শিক্ষা নেবে কিন্তু দেখা গেল সেই বেটা ওদের থেকে আরো ফাঁকিবাজ। ওরা তো বই দেখে কিছু শিখেছে কিন্তু সেই বটোতো তাও জানে না। তবে ঐ লোকের ফাঁকিবাজির টেকনিকগুলো শিখে নিল।
কিছুদিনের ভিতর ওরা ওদের জিনিসপত্র নিয়ে ভাল একটা জায়গা বেছে নিয়ে বসে পড়ল। দু’জনের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে ফেলল। লম্বা কালো আলখাল্লা, মুখে সাদা দাড়ি, মাথায় বিশাল বড় এক পাগড়ি। সামনে স্বচ্ছ কাছের হাড়ি, ওদের এমন একটা ভাব যেন এই কাচের হাড়িতে ওরা মানুষের ভূত-পূর্ব-ভবিষ্যত সবই দেখতে পায়। কেরামত পাক্কা সাগরেদের মত কাজ চালাতে লাগল। আর একটা ব্যানারের ভিতর “এখানে মানুষের অচিন্তনীয় বিষয় চিন্তা করা হয় এবং ভাগ্য পরিবর্তন করা হয় -অকার্য সাধনে শ্রী গুরুজি হানাফাত আলী সিনা পদন এবং শ্রী গুরুজি মারাকত আলী সুজনপুরী ” লিখে সামনে ঝুলিয়ে দিল। ছদ্ম নামের সাথে ওদের নাম সামান্য পরিবর্তন করে জুড়িয়ে দিল, যাতে কেউ এসে বললে সহজে ধরে ফেলতে পারে।
নতুন ব্যবসায় ওদের সাফল্য বেশ ভাল ভাবেই আসতে লাগল। ভাগ্য পরিবর্তনের নেশায় সবাই হুমরি খেয়ে পড়ল। এলাকার যত ভাবুক ছেলে ছিল সবগুলো অচিন্তনীয় বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে এল। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে গেল বিদেশ থেকে আগত দুই গুরু অকল্পনীয়ভাবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করিয়ে দিতে পারে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসতে লাগল তাদের কাছে। প্রথম দিকে তারা ‘বিজিট ফি’ পাঁচ টাকা নিলেও, পরে এত সাড়া পেয়ে ‘বিজিট ফি’ বাড়িয়ে দিল। তারপর ও লোকের কমতি নেই।
স্কুল টাইমে এরা শুধু বেশ-ভূসা পাল্টে ক্লাস করে আসে। তারপর আবার আগের বেশে কাজে নামে। ক্লাসের ছেলেরা ওদের সামনেই দুই গুরুজির কীর্তন গায়। ওরা শুধু মনে মনে হাসে আর বলে,“তোরা কি আর বুঝবি ঐ গুরুজি কে?”
প্রতিদিন ওদের কাছে মানুষ অদ্ভুত সব সমস্যা নিয়ে আসে। সেদিন এক লোক আসল, তার মোরগের ভবিষ্যৎ বলে দিতে। ওরা কি বলবে ভেবে না পেয়ে বলল, আপনার মোরগ ভবিষ্যতে ডিম দেবে, সকাল বেলা আরো জোরে জোরে ডেকে সবার ঘুম হারাম করবে। এ কথা শুনে লোকটাতো আনন্দে উৎফুল্ল। এমন সময় সুজনের বোধোদয় হল। সে ভাবল, আরে মোরগ আবার ডিম দিতে পারে নাকি!
তাই সে কথা কাটানোর জন্য বলল, আপনার মোরগ আজকে রাতেই শুধু ডিম পাড়বে। এবং আজকেই শেষ।
কথা বললেই তো হবে না, প্রমাণ তো করতে হবে। তাই রাতের বেলা চুপি চুপি গিয়ে ওরা মোরগের নিচে এককুড়ি ডিম দিয়ে আসল। পরদিন সকাল বেলা এ ব্যাপার নিয়ে পুরো গ্রামজুড়ে হইচই পড়ে গেল। গুরুর আশির্বাদে মোরগে ডিম পেড়েছে এই রবে পুরো এলাকা তোলপাড়। এর ফলে ওদের বিশ্বাসযোগ্যতা আরো বেড়ে গেল। আগের থেকে লোকসমাগমও বেড়ে গেল প্রচুর পরিমাণে। গণকের সাথে দরবেশ উপাধিটাও জুড়ে গেল।
ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওদের কিছু টেকনিক অবলম্বন করতে হতো। ওরা প্রথমে হাত দেখে যে কোন একটা সমস্যার কথা বলত। আর এটা শুনে তো ঐ লোকের যখন মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়, তখন পদ্ম গম্ভীর হয়ে বলত, চিন্তা করে লাভ নেই বৎস, এই সাদা হাড়ির ভিতর মাথা ঢুকিয়ে এক ঘন্টা বসে থাক তাহলে সব সমস্যা কেটে যাবে। পরে যখন দেখত এই হাড়ির ভিতর মাথা ঢুকিয়ে রাখার জন্য সেই সমস্যা আর হতো না তখন তো লোকে ওদের প্রসংশায় আত্মহারা হতো।
এমনিভাবে একদিন এক ডাকাত সর্দার এলো ওদের কাছে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। ডাকাতিতে কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছে না বেচারা। পরবর্তী মিশন যাতে আর ব্যর্থ হতে না হয় তাই ওদের কাছে আসা।
সুজনের হাতে দুইটা পাঁচশ টাকার নোট গজিয়ে ডাকাত সর্দার তার পা টিপতে টিপতে বলল, “বাবা মোগো লাই কিছু কর, দুই দুইডা ডাকাতি থাইকা খালি হাতে ফিরা আইছি এইবার কিছু কইরতে না র্পালি ডাকাতির ইজ্জত যাইব।”
এ কথা শুনে সুজনের মুখটা উজ্জ¦ল হয়ে উঠল। অনেক দিন থেকে তারা গোয়েন্দাগিরির পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু কোন কেচ-ই হাতে আসছে না। স্বয়ং ডাকাতকে কাছে পেয়ে ওরা ব্যাপারটা লুফে নিতে চাইল।
তাই পদ্ম জিজ্ঞাসা করল,“পরবর্তী মিশন কোথায় আছে?”
“গোপন ব্যাপারগো বলতি নাই!”
“না বললে তো এবার ও ব্যর্থ।”
“হায় হায় একি কতা কইলে গো বাবা। দয়া করহ্ দয়া করহ্। গোপন
ব্যাপার হলিও তোমাগো তো বলতি মানা নাই। তোমগো তো সর্বোদৃষ্টি।
হাসু মেম্বরের বাইত। আলমারি ভত্তি টাহা আছে,হুনছি।”
“ঠিক আছে ঠিক আছে। সে আমার আগেই জানা আছে। শুক্রবারে শুধু
লাঠি হাতে ডাকাতিতে যাবি তাহলে আর কেউ ঠেকাতে পারব না। মনে
রাখবি লাঠি হাতে শুক্রবার রাতে অন্য কোন দিন না।”
তারপর ডাকাত সর্দার ওদের পা চুম্বন করে খুশি মনে বিদায় নিল।
ডাকাত দলকে কিভাবে ধরলে ওদের ক্রেডিট বাড়বে তাই নিয়ে ভাবতে লাগল ওরা। সুজন মরামর্শ দিল, “আয় পুলিশকে আগে সব জানিয়ে রাখি তাহলে মনে কর দলটাকে ধরা সোজা হবে।”
পদ্ম ওর কথায় বিরক্ত হয়ে বলল,“তোর মাথায় ব্রেন বলতে কিছু নেই। বোকা কোথাকার, পুলিশই যদি ধরে ফেলল তাহলে তো পুরো ক্রেডিট যাবে পুলিশের হাতে। তাছাড়া আমাদেরও বিপদের সম্ভাবনা আছে।
“আমাদের আর বিপদ কি”?
“আমাদের বিপদ কি মানে! পুলিশ যদি জিজ্ঞাসা করে আমরা কোথা থেকে এ তথ্য পেয়েছি, কি বলবি তখন? শেষে দেখা যাবে ডাকাত হিসেবে আমাদেরই লক-আপে ডুকিয়ে দেবে। সুতরাং আমাদেরকেই মাঠে নামতে হবে। পুরো ডাকাত দলকে পরাস্ত করে তবেই পুলিশ। বুঝলি?”
“ডাকাত দলকে আমরা পরাস্ত করব? ফাজলামো করিস না। যা কিছু করার চিন্তা ভাবনা করে করতে হবে।”
“চিন্তা ভাবনা করেই বলছি।”
“নাউযুবিল্লাহ, আমরা দু‘জন ডাকাত দলের সাথে পারব কি করে।”
“সেটাই তো গোয়েন্দাদের ক্রেডিট। আমরা দু‘জন কে বলল কেরামত আছে না। তাছাড়া মেম্বার সাহেবের ¯েœহধন্য হওয়ার এটা একটা বড় সুুযোগ।”
“পদ্ম আমি তো চোখে কোন পথই দেখছি না। শেষে না ডাকাতের হাতে প্রাণটা যায়।”
পদ্ম মৃদু হেসে বলল,আগে শুক্রবার আসুক তারপর দেখবি। শুক্রবার দিন সকাল বেলা কেরামত এসে খবর দিল, সে দু‘জন লোককে দেখেছে হাশু মেম্বারের বাড়িতে নজর রাখতে। পদ্ম শুনে বলল, “এ আর নতুন কী, ডাকাতদের সিস্টেমই এটা। ডাকাতি করার আগে বাড়ির হাল অবস্থা জেনে যায়। তবে ডাকাতিতে কয় জন আসবে তা জানতে পারলে ভাল হত?”
কেরামত মাথা চুলকে বলল, “কয়জন আর হবে? সত্তর কি আশি।”
পদ্ম ঠাট্টা করে বলল, “তোর বিয়ের দাওয়াত খেতে আসবে তো,তাই পুরো এলাকাবাসী নিয়ে আসবে। গাধা এই কমন সেন্সটাও নেই। দশজনের বেশি তো আসবেই না।”
এবার সুজন কিছুটা অভিমান দেখিয়ে বলল, “ঐ দশজনকে পরাস্ত করবি কিভাবে সেটাই আগে ভাব।”
“সেটা আমার ভাবা হয়ে গেছে। তুই শুধু তোর ছোট ভাইয়ের খেলনার পিস্তলটা নিয়ে আসবি। আর আমাদেও টিমে আর একজন লাগবে।”
“তুই কি পাগল হয়েছিস্ খেলনার পিস্তল দিয়ে ডাকাত দলের মোকাবেলা! তোর আসলে প্রাণের মায়া নেই। আরেক জন না লাগবে বললি, ইচ্ছে করলে কেরামতের দুধ খাওয়া ভাইটাকে নিতে পারিস।
পদ্ম ভাবল, এই দু‘জনকে পুরো পরিকল্পনা বুঝিয়ে না বললে কোন কাজই হবে না। তাই সে পুরো পরিকল্পনাটা বিস্তারিতভাবে ওদেও শুনিয়ে দিল। সব শুনে ওদের কাছে পুরো ব্যাপারটা পানির মত সোজা মনে হলো। সুজন পদ্মের বুদ্ধির প্রসংশা না করে পারল না।ওদের সঙ্গী হিসেবে আরেক জনকে খুব সহজে পাওয়া গেল, ওদের ক্লাসেরই শমসের। সব কাজে ওদের খুব সহযোগিতা করে।
শুক্রবার রাতে ওরা উপস্থিত হয়ে গেল হাসু মেম্বারের বাড়িতে। কি করতে হবে পদ্মদের খুব ভাল করেই জানা আছে, তারা শুধু ডাকাত দলের অপেক্ষা আছে। রাত বারটা পঁচিশে ডাকাত দল এসে হাজির হল হাশু মেম্বারের বাড়িতে। ওরা মোট পাঁচজন।দু‘জন বাইরে পাহারায় আর তিন জন বাড়ির ভেতরে গেছে ডাকাতি করতে।
পদ্মদের পুরো টিমটাও রেডি। ডাকাতদের সব কর্মকান্ড ওরা আম গাছের ডগায় বসেদেখছে। মূল মিশনে যাবে পদ্ম, সুজন আর কেরামত। সমশেরের কাজ হলো ওদের কিছু হলে পুরো গ্রাম ডেকে জাগিয়ে তোলা। সুজন বলল,আয় আমরা আমাদের কাজ শুরু করে দ্্িই।পদ্ম ওকে থামিয়ে বলল, ‘উহ হো’ এখন কিছুই করা যাবে না, ডাকাতরা মূল মিশনে যাবে আর আমরা শুরু করব। তবে এতক্ষণে মনে হল ডাকাতরা বাড়িতে আক্রমন করে লুটপাট শুরু করেছে কারণ বাড়ির ভেতর থেকে হই চই শোনা যাচ্ছে।
ওরা এবার কাজে নেমে পড়ল । প্রথমেই দুই পাহারাদারকে শায়েস্তা করতে হবে। পদ্ম আর কেরামত দুই দিক থেকে এগিয়ে গেল দুটো বরাগ বাঁশের লাঠি নিয়ে। গাব গাছের পিছনে লুকিয়ে ওরা সুযোগের অপেক্ষা করতে লাগল। কোন বিপদের সম্ভাবনা নেই দেখে ডাকাত দুটো আলাপচারিতায় মগ্ন হলো। পদ্ম কেরামতকে ইশারা দিল এটাই সবচে ভাল সুযোগ। দু‘জন একসাথে দুই ডাকাতের মাথার পিছনে মড়াৎ করে দিল বাড়ি। ‘কোৎ’ করে দুই ডাকাত এক সাথে অজ্ঞান। সুজন দেরি না করে দুটো ডাকাতকে শক্ত করে বেঁধে ফেলল।
বাড়ির ভেতর সবার মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও,ডাকাত সর্দারের লাঠির সামনে দাঁড়ানোর সাহস কারও নেই। পদ্ম,সুজন আর কেরামত চুপি চুপি এগিয়ে গেল। পদ্ম বলল, সবার পিস্তলগুলো হাতে বের করে রাখ। ভুলে ও ভাববি না এগুলো খেলনার পিস্তল।
ডাকাতরা খুব চালাক, বিদ্যুৎ সংযোগ আগেই নষ্ট করেছে। ওদের হাতে টর্চ আছে। অন্ধকার হওয়ার পদ্মদের জন্যও সুবিধা হলো।
তিনজনেই খুব সাবধানে কাজ করছে। ডাকাতদের মুখোমুখি হলেই ঝামেলা। ওরা ঘরের ভিতর উকি দিল। সবাইকে বেধে রেখেছে মনে হলো। ডাকাতগুলো জিনিসপত্র লুট করে বস্তার ভিতর ডুকাচ্ছে। ওরা তিনজন দেয়াল ঘেঁষে ঘরের ভিতর প্রবেশ করতে লাগল। সুজনটা শেষ পর্যন্ত বিপত্তি লাগাল। হাঁসের খোঁয়াড়ের খুটিতে ধাক্কা খেয়ে দরাম করে পড়ল মাটিতে। ডাকাত দল সাবধান হয়ে গেল। টর্চ টিপে ধরে রাখল তার দিকে। দু‘জন লাঠি তোলে এগিয়ে আসল ওকে মারার জন্য। ডাকাত দুটোর হিং¯্র চেহারা দেখে সুজনের আত্মরাম খাচাছাড়া।
এ অবস্থায় পদ্ম আর কেরামত করল আসল কাজ। দু‘জন দুই ডাকাতের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গলা একটু মোটা করে বলল, একটু নড়বি তো শালা মাথার খুলি উড়িয়ে দেব। আমরা পুলিশের লোক। তোদের ডাকাতির খবর আগেই পেয়েছি। ওর কথায় মনে হয় কাজ হল। কারন দুই ডাকাত একদম স্থির হয়ে গেছে। কিন্তু আরেকটা কই? ঐ ডাকাতের আসলে আজ অভিষেক ছিল। দুই ডাকাত ধরা পড়ায় বেচারা এত পরিমানে ভয় পেয়েছে যে ভো দৌড় দিয়েছে, যাওয়ার সময় লুঙ্গিটাও ফেলে গেছে।
সুজন বাড়ির সবার বাধন খুলে দিল। সাথে সাথে দুই ডাকাতকেও বেধে ফেলা হলো। হাশু মেম্বারের কাজের ছেলে ছাত্তার গিয়ে পুলিশেকে খবর দিল। পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেল ডাকাত দলকে। থানার ওসি সাহেব ওদের সাহসিকতার খুব প্রসংশা করল। আর হাশু মেম্বারের তো কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। পারলে ওদের নিজের ছেলে করে রেখে দেয়।
ওদের এ সাহসিকতার সুনাম পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল। স্কুল থেকেও ওদের সাহসী ছেলে বলে সংবর্ধনা দেয়া হলো। পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হলো ওদের কৃতিত্ব।
পদ্ম আর সুজন ভাবল এত সুনাম থাকতে আর ঐ গণকবাজি করে কাজ কি ! তাই তারা ঐ ফাঁকিবাজি কাজটা ছেড়ে দিল। কিন্তু মানুষ কি আর মানে, দুই বাবার শোকে সবাই একেবারে শোকাহত হয়ে গেল। বাবা গো কোথায় গেলে,বলে এ বাড়ি ও বাড়িতে শোকের আওয়াজ শোনা যায়। পদ্ম, সুজন কি করবে তাই ভাবছে!আমার লেখা পড়ুন।

Saturday, August 27, 2011

গাছে চড়া

হাতির ভীষণ ইচ্ছে হলো উঠবে চড়ে গেছে
সেই আশাতে মত্ত হয়ে আনন্দে সে নাচে,
ঐ দেখ না বানরগুলো
খাচ্ছে বসে সাদা মুলো।
হাতি বেটার বুক ফেটে যায় ওদের প্রতি ইর্ষে
এইবার সে ভাঙবে রেকর্ড উঠে গাছের শীর্ষে
এমন আজব কথা শুনে
পাখি ছড়ায় জন-কুজনে
শিয়াল বাঘ চামচিকারা উঠতে বলে গাছে
উঠলে পড়ে বুঝবে মজা কেমন বিপদ আছে!
কারো কথায় কান না দিয়ে
উঠলো হাতি গাছে,
গাছে উঠেই আনন্দে সে
তা ধিন তা নাচে।
ভাঙলো ডাল ফট ফটাফট;
এরপরে যা ঘটলো তা কী তোমরা জানোরে?
হাতির কাজ হাতির মানায় বানরেরটা বানরে।

নালিশ

যা করেছি ,সব ভুলে যা
করিস না তুই নালিশ
জানতে পারলে আম্মু আমায়
মেরে করবে পালিশ!!
চুরি করেছি দু‘জন মিলে
তোরটা না হয় নিল চিলে
তাই বলে তুই করবি নাকি রাগ?
না হয় তোকে
আমার থেকে আমার থেকে দিলাম কিছু ভাগ।
কালকে আবার করব চুরি
রমিজ মিয়ার গাছে
সেথায় নাকি টুকটুকে লাল
পেয়ারা পেকে আছে!
সত্যি বলছি,তোকে দেবো
সেসব ফলের ভাগ
দু‘জন মিলে করবো চুরি
করিস না আর রাগ।

Saturday, July 9, 2011

দূর হতে আরো দূরে

যাও ভুলে যাও
আজ পিছু ডাকবো না,
যাও চলে যাও
দূর হতে আরো দূরে
সব স্মৃতি মুছে দিয়ে
গহীনের অন্ধক্ষণে।
হৃদয়ের যত
অনুভূতি ছিল
হয়ে গেছে পাথরের
মরা কান্না।
শুকনো পাতার মতো
রৃষ্টিতে ভেসে গেছি
তবু ফিরে চাইলে না।
অশ্রুর ভেজা জল
তোমার কাছে
শুধুই বৃষ্টির ফোঁটা,
শালিকের অবুঝ ডাক
শুধুই মিছে কোলাহল।

নিশীথের অন্ধকারে
ম্লান হয়ে আসে
ভুলে ভরা ইতিহাস।

শ্রাবণের মিথ্যে রাতের গল্পে
নিশাচররা স্বপ্নহীন,
তোমার মাঝে আজও
মিথ্যেরা রঙীন।

কষ্টের মাঝে লীন হয়
প্রাণহীন জীবিত মানুষ,
যাও চলে যাও
শুধু ফিরে চেও না,

অবাক হয়ে
নির্লীপ্ত আমি।

Tuesday, June 14, 2011

ত্রি.এন.এ.

প্রতিদিন ইন্টারনেট ঘেটে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের খোঁজ করাটা আমার কাছে নেশার মতো দাড়িঁয়েছে।আজ একটা নিউজ দেখলাম প্রতিটি ব্লগে স্থান করে নিয়েছে।খবরটা খুব আশ্চর্যজনক।পুরো ব্যাপারটা বিজ্ঞানের দৃষ্টি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
'Science Vision'-এর Web Page এ গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম।চিলির দক্ষিণে আনুকাঠ চিলোইদ্বীপে আশ্চর্য এক ফসিল পাওয়া গেছে।ফসিলের বয়স খুব বেশি নয়।আশ্চর্যের কারণ হল ফসিলের কোষ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এর প্রতিটি কোষে তিনটি নিউক্লিয়াস রয়েছে।যা কিনা পৃথিবীর প্রোক্যারিওটিক কিংবা ইউক্যারিওটিক কোন জীবেই দেখা যায় না।তাই বিজ্ঞানীরা এর নামকরণ করেছেন ত্রি.এ.এ.(তিন নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট প্রাণী)।সবচে' অদ্ভূত ব্যাপার হলো,প্রাণীটার আকৃতি সম্পূর্ণ মানুষের মতো।কয়েকজন আর্টিস্টের আকা কাল্পনিক কিছু ছবিও দেখতে পেলাম।

নতুন আবিষ্কৃত ফসিলটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই।একের পর এক মত আসছে এ নিয়ে।বর্তমানকালের সেরা বিজ্ঞানী রুশ নাগরিক বার্নার্ড ইভানোভস্কির একটা আর্টিকেল পড়ে শিহরিত হলাম।তিনি লিখেছেন, পৃথিবীর পাচশ কোটি বছরের ইতিহাসে বিবর্তনবাদ কিংবা প্রাকৃতিক জীন প্রকৌশলের ফলে এই ত্রি.এন.এ. প্রানীদের আগমন।কল্পনীয় হলেও ব্যাপারটা সত্য যে,এই তিন নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট প্রানীটা এখনো মানুষের ভিতর টিকে আছে ,দিব্যি মানুষের দলবুক্ত হয়ে।এই প্রানীগুলো এখনো যে টিকে আছে তা অনেক বিজ্ঞানীর কথাতে জানতে পারলাম।চিলির বিভিন্ন প্রদেশে খোঁজাখুজির কাজও শুরু হয়ে আছে।
০০০ ০০০ 000 0000
আমাদের কলেজে সব মেধাবী ছাত্ররা ভর্তি হলেও আচার আচরণে সম্পূর্ণ ভিন্ন এ রকম ছেলে খুঁজে পাওয়া মুস্কিল।আমাদের ক্লাসের তেমনি এক ছেলে রুশো।সবসময় খুব চুপচাপ থাকে আবার কথা বললেও অনেকটা যান্ত্রিক মনে হয়।তাছাড়া ওর গায়ের রংও আমাদের থেকে আলাদা।তামাটে শরীর হলদে ছাচ। প্রথম দিকে আমরা ওর সাথে না মিশলেও পরবর্তীতে আষ্তে আস্তে বন্ধুত্ব করে ফেলি।

রুশো আমাদের ভিতর জনপ্রিয় ছিল তার কিছু অদ্ভুত গুণের কারণে । মানুষের মনের কথা ও খটাস করে বলে দিতে পারত । তাই আমরা ওর সাথে কথা বলার সময় মুখের চেয়ে মনের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতাম বেশি । লিপ রিডিং-এ ওর তুলনা ছিল না। দূর থেকে ও ঠোঁট নড়াচড়া দেখেও বলে দিতে পারত কি কথা বলছে।

মেধার দিক দিয়েও যে রুশো কম ছিল তা কিন্তু নয়। একবার দেখলেই সবকিছু মনে রাখতে পারত । পড়ালেখায় ওকে কখনো আটকাতে দেখিনি।

আমাদের Zoology টিচার গাজী আকমল যিন ছিলেন খুব বুদ্ধিমান একজন টিচার। উনি মিনহাজকে প্রথম থেকেই কেমন জানি সন্দেহ করতেন। ত্রি.এন.এ. এর খবরটা প্রকাশ হওয়ার পর তার ধারণা আরো দৃঢ় হয়।

স্যার একদিন পড়া ধরার নাম করে রুশোকে ডেস্কে ডেকে নিলেন। তারপর বুদ্ধি করে রুমালের ভিতর ও কোষের কিছু অস্তিত্ব রেখে দিলেন। স্যারের পরিচিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোলজি বিভাগের একজন টিচারের কাছে দিলেন সেই কোষ পরীক্ষা করার জন্য।

কিছুদিন পর অবাক করা এক তথ্য পাওয়া গেল, যা স্যার নিজেও বিশ্বাস করতে পারলেন না। ওর D.N.A.Structure মানুষের মত নয়। এমনকি অন্য কোন জীবিত প্রাণীর সাথেও মিলছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা উঠে পড়ে লাগলেন এই কোষ কার জানার জন্য। কিন্তু স্যার কিছুই প্রকাশ করলেন না।
আজমল স্যারের এক সময় সখ ছিল বিজ্ঞানী হবার,কিন্তু নানা প্রিতকুলতার দরুণ তা আর হয়ে উঠেনি। স্যার ভাবলেন, বিজ্ঞানীদের কাতারে নাম লেখাবার এটাই একটা মোক্ষম সুযোগ। ত্রি.এন.এ. নিয়ে তিনি নিজেই গবেষণা করবেন বলে ঠিক করলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। স্যার দ্বিগুণ উৎসাহে গবেষণা শুরু করলেন।

স্যারের গবেষণায় নতুন নতুন সব তথ্য বের হতে লাগল। স্যার একদিন চুপিচুপি রুশোদের বাড়িতে গেলেন। ওদের বাড়িটাও দেখতে অনেকটা অদ্ভুত। পৃথিবীর কোন বাড়ির সাথে মিল নেই। অ্যালুমিনিয়ামের পাতের তৈরি খোপের মতো বাড়ি। স্যার অনেক চেষ্টা করে জানতে পারলেন, রুশোর কোন মা নেই। আর কখনো ছিল কিনা জানা গেল না। এ তথ্যটা স্যারকে খুব ভাবিয়ে তুলল।

গবেষণার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে, তেমনি স্যারকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু কাজ করতে হলো। মিনহাজকে তিনি তার রুমে ডেকে পাঠালেন।শরীর চেকআপ করে ওর অবস্থা দেখে পুরো হতভম্ব হয়ে গেলেন। এই ত্রি.এন.এ. প্রাণীগুলো উভলিঙ্গ ! অর্থাৎ রুশোর মত একটা প্রাণী সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুক্রানু আর ডিম্বানু একই শরীরে উৎপন্ন হয়।আকমল স্যারের এ আবিষ্কার বিজ্ঞানকে কী এগিয়ে দিল নাকি পিছিয়ে দিল তা ভাববার বিষয়।

স্যার গবেষণার কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিলেন।তবে তিনি নতুন একটা ভাবনায় পড়লেন,এই ত্রি.এন.এ. প্রাণীদের মানুষের গোত্রে ফেলবেন নাকি অন্য কোন নতুন গোত্র!!আচার ব্যবহার গঠন মানুষের মতো হলেও কোষের গঠন তো আর এক না!তাছাড়া D.N.A. Structure ও তো এক না!স্যার ভাবলেন অত আজগুবি চিন্তা করে লাভ নেই, গবেষনার ফলাফল আগে প্রকাশ হোক তারপর নতুন আরো অনেক কিছু বের হবে।

ইন্টারনেটে প্রকাশ হলো আকমল স্যারের গবেষনার ফল।স্যারের এই আশ্চর্য প্রতিবেদনটা আমাদের সবাইকে অবাক করল,কারণ আমরা এর কিছুই জানতাম না।তাছাড়া সারা পৃথিবী তোলপাড় করলো এই একটা প্রতিবেদন!আর এই প্রতিবেদনের জন্য আজমল স্যার বনে গেলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানীদের একজন।

নানা দেশের বিজ্ঞানীরা রুশোকে পাওয়ার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে রাজি হল।অনেক চিড়িয়াখানাও এ ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখাল।ঢাকা চিড়িয়াখানা দাবি করল এই প্রাণীটা যেহেতু বাংলাদেশেই পাওয়া গেছে তাই এটা এই চিড়িয়াখানাতেই স্থান পাওয়া উচিত ।

এদিকে স্যারের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর থেকে রুশোও উধাও । কোথায় গেছে কেউ তার কোন হদিশ দিতে পারল না! আমরা স্যারের সাথে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম কিন্তু বাড়িশুদ্ধ উধাও।

ও উধাও হয়েছে দেখে আমরা অন্তত শান্তি পেলাম। কারণ ওকে পেলে হয়তো এ যুগের মানুষ গবেষনাগারের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করতো।
রুশোর উধাও হওয়ার গঠনায় স্যারের মুখে শুধু হাসি দেখলাম,কিন্তু তার মানে বুঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।ত্রি.এন.এ.-কে না পাওয়ার দুঃখ হয়তো পৃথিবীর থেকে যাবে কিন্তু আমাদের থাকবে না। আমাদের কামনা যেখানেই থাকো ত্রি.এন.এ. রুশো ভাল থেকো,আর আমাদের মনে রেখো......।

Friday, June 3, 2011

একটি কবিতা

ও কবি,উদাসী কবি
হোমারের উত্তরসূরী
তোমার একটি কবিতা
শুধু একটি কবিতা
আমার অস্তিত্বহীন সত্তায়
লিখে দাও
শুধু একটি কবিতা।

কালের ধূসর পটে
ইতিহাসের মলিন খাতায়
চিরায়ত সত্তায়
টিকে থাকবে
একটি কবিতা।

ঝিঝির ডাকে যে নিদারুণ ব্যথা
চৈত্রের শুকনো শরীর,
কবি, তুমি ছাড়া বুঝবে কে?
সোনালুর হলুদ ফুলে
শিশিরের ব্যর্থতা
আর আমার মিটে যাওয়া ভালবাসা
সবাই তো তোমার ভবিষ্যৎ বানী।

শ্রাবণের নির্ঝর রাতে
হিমেল হাওয়ার মিষ্টি ঘ্রাণে
তুমি কবি একা জেগে
হাতে একটি কবিতা
শুধু একটি কবিতা।