Tuesday, June 14, 2011

ত্রি.এন.এ.

প্রতিদিন ইন্টারনেট ঘেটে বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের খোঁজ করাটা আমার কাছে নেশার মতো দাড়িঁয়েছে।আজ একটা নিউজ দেখলাম প্রতিটি ব্লগে স্থান করে নিয়েছে।খবরটা খুব আশ্চর্যজনক।পুরো ব্যাপারটা বিজ্ঞানের দৃষ্টি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
'Science Vision'-এর Web Page এ গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম।চিলির দক্ষিণে আনুকাঠ চিলোইদ্বীপে আশ্চর্য এক ফসিল পাওয়া গেছে।ফসিলের বয়স খুব বেশি নয়।আশ্চর্যের কারণ হল ফসিলের কোষ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এর প্রতিটি কোষে তিনটি নিউক্লিয়াস রয়েছে।যা কিনা পৃথিবীর প্রোক্যারিওটিক কিংবা ইউক্যারিওটিক কোন জীবেই দেখা যায় না।তাই বিজ্ঞানীরা এর নামকরণ করেছেন ত্রি.এ.এ.(তিন নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট প্রাণী)।সবচে' অদ্ভূত ব্যাপার হলো,প্রাণীটার আকৃতি সম্পূর্ণ মানুষের মতো।কয়েকজন আর্টিস্টের আকা কাল্পনিক কিছু ছবিও দেখতে পেলাম।

নতুন আবিষ্কৃত ফসিলটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই।একের পর এক মত আসছে এ নিয়ে।বর্তমানকালের সেরা বিজ্ঞানী রুশ নাগরিক বার্নার্ড ইভানোভস্কির একটা আর্টিকেল পড়ে শিহরিত হলাম।তিনি লিখেছেন, পৃথিবীর পাচশ কোটি বছরের ইতিহাসে বিবর্তনবাদ কিংবা প্রাকৃতিক জীন প্রকৌশলের ফলে এই ত্রি.এন.এ. প্রানীদের আগমন।কল্পনীয় হলেও ব্যাপারটা সত্য যে,এই তিন নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট প্রানীটা এখনো মানুষের ভিতর টিকে আছে ,দিব্যি মানুষের দলবুক্ত হয়ে।এই প্রানীগুলো এখনো যে টিকে আছে তা অনেক বিজ্ঞানীর কথাতে জানতে পারলাম।চিলির বিভিন্ন প্রদেশে খোঁজাখুজির কাজও শুরু হয়ে আছে।
০০০ ০০০ 000 0000
আমাদের কলেজে সব মেধাবী ছাত্ররা ভর্তি হলেও আচার আচরণে সম্পূর্ণ ভিন্ন এ রকম ছেলে খুঁজে পাওয়া মুস্কিল।আমাদের ক্লাসের তেমনি এক ছেলে রুশো।সবসময় খুব চুপচাপ থাকে আবার কথা বললেও অনেকটা যান্ত্রিক মনে হয়।তাছাড়া ওর গায়ের রংও আমাদের থেকে আলাদা।তামাটে শরীর হলদে ছাচ। প্রথম দিকে আমরা ওর সাথে না মিশলেও পরবর্তীতে আষ্তে আস্তে বন্ধুত্ব করে ফেলি।

রুশো আমাদের ভিতর জনপ্রিয় ছিল তার কিছু অদ্ভুত গুণের কারণে । মানুষের মনের কথা ও খটাস করে বলে দিতে পারত । তাই আমরা ওর সাথে কথা বলার সময় মুখের চেয়ে মনের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতাম বেশি । লিপ রিডিং-এ ওর তুলনা ছিল না। দূর থেকে ও ঠোঁট নড়াচড়া দেখেও বলে দিতে পারত কি কথা বলছে।

মেধার দিক দিয়েও যে রুশো কম ছিল তা কিন্তু নয়। একবার দেখলেই সবকিছু মনে রাখতে পারত । পড়ালেখায় ওকে কখনো আটকাতে দেখিনি।

আমাদের Zoology টিচার গাজী আকমল যিন ছিলেন খুব বুদ্ধিমান একজন টিচার। উনি মিনহাজকে প্রথম থেকেই কেমন জানি সন্দেহ করতেন। ত্রি.এন.এ. এর খবরটা প্রকাশ হওয়ার পর তার ধারণা আরো দৃঢ় হয়।

স্যার একদিন পড়া ধরার নাম করে রুশোকে ডেস্কে ডেকে নিলেন। তারপর বুদ্ধি করে রুমালের ভিতর ও কোষের কিছু অস্তিত্ব রেখে দিলেন। স্যারের পরিচিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোলজি বিভাগের একজন টিচারের কাছে দিলেন সেই কোষ পরীক্ষা করার জন্য।

কিছুদিন পর অবাক করা এক তথ্য পাওয়া গেল, যা স্যার নিজেও বিশ্বাস করতে পারলেন না। ওর D.N.A.Structure মানুষের মত নয়। এমনকি অন্য কোন জীবিত প্রাণীর সাথেও মিলছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা উঠে পড়ে লাগলেন এই কোষ কার জানার জন্য। কিন্তু স্যার কিছুই প্রকাশ করলেন না।
আজমল স্যারের এক সময় সখ ছিল বিজ্ঞানী হবার,কিন্তু নানা প্রিতকুলতার দরুণ তা আর হয়ে উঠেনি। স্যার ভাবলেন, বিজ্ঞানীদের কাতারে নাম লেখাবার এটাই একটা মোক্ষম সুযোগ। ত্রি.এন.এ. নিয়ে তিনি নিজেই গবেষণা করবেন বলে ঠিক করলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। স্যার দ্বিগুণ উৎসাহে গবেষণা শুরু করলেন।

স্যারের গবেষণায় নতুন নতুন সব তথ্য বের হতে লাগল। স্যার একদিন চুপিচুপি রুশোদের বাড়িতে গেলেন। ওদের বাড়িটাও দেখতে অনেকটা অদ্ভুত। পৃথিবীর কোন বাড়ির সাথে মিল নেই। অ্যালুমিনিয়ামের পাতের তৈরি খোপের মতো বাড়ি। স্যার অনেক চেষ্টা করে জানতে পারলেন, রুশোর কোন মা নেই। আর কখনো ছিল কিনা জানা গেল না। এ তথ্যটা স্যারকে খুব ভাবিয়ে তুলল।

গবেষণার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে, তেমনি স্যারকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু কাজ করতে হলো। মিনহাজকে তিনি তার রুমে ডেকে পাঠালেন।শরীর চেকআপ করে ওর অবস্থা দেখে পুরো হতভম্ব হয়ে গেলেন। এই ত্রি.এন.এ. প্রাণীগুলো উভলিঙ্গ ! অর্থাৎ রুশোর মত একটা প্রাণী সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুক্রানু আর ডিম্বানু একই শরীরে উৎপন্ন হয়।আকমল স্যারের এ আবিষ্কার বিজ্ঞানকে কী এগিয়ে দিল নাকি পিছিয়ে দিল তা ভাববার বিষয়।

স্যার গবেষণার কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিলেন।তবে তিনি নতুন একটা ভাবনায় পড়লেন,এই ত্রি.এন.এ. প্রাণীদের মানুষের গোত্রে ফেলবেন নাকি অন্য কোন নতুন গোত্র!!আচার ব্যবহার গঠন মানুষের মতো হলেও কোষের গঠন তো আর এক না!তাছাড়া D.N.A. Structure ও তো এক না!স্যার ভাবলেন অত আজগুবি চিন্তা করে লাভ নেই, গবেষনার ফলাফল আগে প্রকাশ হোক তারপর নতুন আরো অনেক কিছু বের হবে।

ইন্টারনেটে প্রকাশ হলো আকমল স্যারের গবেষনার ফল।স্যারের এই আশ্চর্য প্রতিবেদনটা আমাদের সবাইকে অবাক করল,কারণ আমরা এর কিছুই জানতাম না।তাছাড়া সারা পৃথিবী তোলপাড় করলো এই একটা প্রতিবেদন!আর এই প্রতিবেদনের জন্য আজমল স্যার বনে গেলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট বিজ্ঞানীদের একজন।

নানা দেশের বিজ্ঞানীরা রুশোকে পাওয়ার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে রাজি হল।অনেক চিড়িয়াখানাও এ ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখাল।ঢাকা চিড়িয়াখানা দাবি করল এই প্রাণীটা যেহেতু বাংলাদেশেই পাওয়া গেছে তাই এটা এই চিড়িয়াখানাতেই স্থান পাওয়া উচিত ।

এদিকে স্যারের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর থেকে রুশোও উধাও । কোথায় গেছে কেউ তার কোন হদিশ দিতে পারল না! আমরা স্যারের সাথে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম কিন্তু বাড়িশুদ্ধ উধাও।

ও উধাও হয়েছে দেখে আমরা অন্তত শান্তি পেলাম। কারণ ওকে পেলে হয়তো এ যুগের মানুষ গবেষনাগারের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করতো।
রুশোর উধাও হওয়ার গঠনায় স্যারের মুখে শুধু হাসি দেখলাম,কিন্তু তার মানে বুঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।ত্রি.এন.এ.-কে না পাওয়ার দুঃখ হয়তো পৃথিবীর থেকে যাবে কিন্তু আমাদের থাকবে না। আমাদের কামনা যেখানেই থাকো ত্রি.এন.এ. রুশো ভাল থেকো,আর আমাদের মনে রেখো......।

Friday, June 3, 2011

একটি কবিতা

ও কবি,উদাসী কবি
হোমারের উত্তরসূরী
তোমার একটি কবিতা
শুধু একটি কবিতা
আমার অস্তিত্বহীন সত্তায়
লিখে দাও
শুধু একটি কবিতা।

কালের ধূসর পটে
ইতিহাসের মলিন খাতায়
চিরায়ত সত্তায়
টিকে থাকবে
একটি কবিতা।

ঝিঝির ডাকে যে নিদারুণ ব্যথা
চৈত্রের শুকনো শরীর,
কবি, তুমি ছাড়া বুঝবে কে?
সোনালুর হলুদ ফুলে
শিশিরের ব্যর্থতা
আর আমার মিটে যাওয়া ভালবাসা
সবাই তো তোমার ভবিষ্যৎ বানী।

শ্রাবণের নির্ঝর রাতে
হিমেল হাওয়ার মিষ্টি ঘ্রাণে
তুমি কবি একা জেগে
হাতে একটি কবিতা
শুধু একটি কবিতা।

Wednesday, May 25, 2011

এ বৃষ্টি ছুঁয়ে যাক তোমার হৃদয়

এই বৃষ্টির শব্দ
তুমি শুনতে কি পাও?
পাংশু মেঘের ক্রন্দন
লক্ষ বছর ধরে
মুছে দিয়ে যাচ্ছে
বিরহের কালো জল।

পৃথিবী দেখেছে ক্লিওপেট্রার
বৃষ্টিস্নাত দেহ
আর আজও মনে রেখেছে।
ইতিহাসের কত রূপসী রমনী
বৃষ্টিকে দেখিয়েছে
রূপ আর যৌবনের অদম্য বিলাস।

দু'মেরুতে আজ বৃষ্টি ভেজা
রাত্রি,
পার্থক্য শুধু সময়।
ভাবনার দৃশ্যপটে
বৃষ্টিময়
তোমার আমার কাব্য।
এ বৃষ্টি আমার হৃদয় ছুঁয়েছে
আর ছুঁয়ে যাক
তোমার হৃদয়।

Sunday, May 15, 2011

ভালবাসার জলছাপ

ঝরে গেছে শুকনো পাতা
বসন্তের শেষ দিনে,
আলো আর আধারের সন্ধিক্ষণে
তৈরি হয় হাজারো
ছায়াকাব্য।
বিলীন অন্ধকার ম্লান হয়ে
ফিরে আসে দিনের আলো,
অপেক্ষার শুরু না অবসান
দ্বিধাগ্রস্ত ভালবাসার
মহান পুরুষ।
আঁধারের মাঝে আঁধার
নাকি আলোর মাঝে তুমি?
ভালবাসার জলছাপ
শুধুই কি মরিচীকা নাকি আরো কিছু!
তবু তুমি এসো,
অর্ভ্যথনা জানিয়ে
দিগন্তের শেষ আলো,
আর একমুঠো বেঁচে থাকার আশায়।

Monday, April 25, 2011

অভিমানী খোকা

এইরে খোকা,কি হল তোর,একটু কাছে আসবি না?
চুমু খেয়ে দুষ্টরে তুই একটুখানি হাসবি না?
খোকা বুঝি রাগ করেছে,মুখটা অমন ভার করেছে,
দুষ্টমিতে পাক ধরেছে?
খেলনা নাকি কম পড়েছে,কেউ বুঝি গাল দিয়েছে?
হাতের খাবার কাক নিয়েছে?
আমার খোকার মনটা খারাপ,চাঁদের কাছে নালিশ যাবে।
সূর্য়ি মামা জানবে যখন উচিত রকম শিক্ষা পাবে।

তুমি মা আমায় ছেড়ে থাকো যখন অনেক দূরে
চাঁদের সাথে কথার ছলে,মনটা আমার অনেক পুড়ে।
আমি বুঝি খারাপ ছেলে!কি ক্ষতি আমার সাথে থাকলে পরে
মনটা আমার সদা্ই খারাপ থাকি যখন একলা ঘরে।

আচ্ছা খোকা কান ধরেছি
বাইরে যা্‌ওয়া এই ছেড়েছি,
একলা ঘরে আমার খোকা থাকবে না আর একটি দিন
হাসি খেলায় কেটে যাবে অবুঝ খোকার রাত্রি দিন।

Tuesday, April 5, 2011

বাংলা মাকে

থোকায় থোকায় ফুল ফুটেছে কৃষ্ণচূড়ার ডালে
বাংলার মাটি লাল হয়েছে সেই সে রক্ত লালে।
রাষ্টভাষা বাংলা হবে সেই দাবিতে নামল যারা পথে
বাংলা আমার বাংলা তোমার চলবে না কারো কথাতে।

বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা,পাখির ভাষা,প্রাণের ভাষা
রফিক শফিউর জব্বারের বিলিয়ে দেয়া প্রাণের আশা।
পাখির সুরে নদীর টানে পাই যে খোঁজে বাংলা মাকে
বিশ্ব আজ সালাম জানায় শ্রদ্ধাভরে বাংলা মাকে।

Friday, April 1, 2011

wide your vision

ARAFAT MUNNA is one of the youngest writer of Bengali literature.He believes in his power.He shows his writing skill in poem,short story,drama and novel.He starts writing from his early age.His first poem was published in 'TOITTOMBER' at the age of ten.He was born in shalchar,chandina in the district of comilla in 29 march.He passed his primary level from 'SHALCHAR GOVERNMENT PRIMARY SCHOOL' in his village.Then he came to dhaka with his family and admitted into 'MOTIJHEEL MODEL HIGH SCHOOL'.After getting golden G.P.A-5 in s.s.c. from 'MOTIJHEEL MODEL HIGH SCHOOL',he was admitted in the notre dame college(Number one college of dhaka city).In school life, he stood first in all exam.He is famous for his fluently writing.'Padda andSujan' is the most famous creating character of his.The first story of this series was published in three magazine (The daily azkar kagoz,The daily inkilab and the khabarer antarala)